টিকটকে অবৈধ অভিবাসনের উসকানি, গ্রিসে বাংলাদেশি যুবকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল

বাংলা টিভি ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবকের গ্রিসে থাকার অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) বাতিল করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
গ্রিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের বাসিন্দা মো. হাসান নামের ওই যুবক কয়েক বছর ধরে গ্রিসে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি অন্য বাংলাদেশিদের গ্রিসে আসতে উৎসাহিত করেন এবং দাবি করেন, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও পুলিশি তৎপরতার ঝুঁকি নেই।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি গ্রিক প্রশাসনের নজরে আসে। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসনে উৎসাহ দেওয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ওই বাংলাদেশি নাগরিকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের প্রচারণা মানবপাচারকারী চক্রকে উৎসাহিত করতে পারে এবং ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশে আগ্রহীদের ভুল বার্তা দেয়। তাই এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে।
গ্রিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকার মনে করছে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি গ্রিসে বসবাসরত বৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কমিউনিটির সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কয়েকজনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় প্রবাসীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের আশায় যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের প্রভাব যেন পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



