Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জরুরি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জরুরি ভিত্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নীতিগত সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানি সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, যা থেকে উত্তরণে বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত ঝুঁকতে হবে।

আজ বুধবার ( ৮ এপ্রিল ) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গ্রীনওয়াচ নিউজ ম্যাগাজিন ও এর অনলাইন সংস্করণ।

বৈঠকে বক্তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম ও ব্যাটারির দাম আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এখন আরও লাভজনক হয়ে উঠেছে। তারা মনে করেন, যথাযথ পদক্ষেপ নিলে সরকারের ২০৪০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যেই অর্জন সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমদ। প্রধান বক্তা ছিলেন এম জাকির হোসেন খান। সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন গ্রীনওয়াচ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আব্দুল হক, আব্দুস সাত্তার দুলাল এবং হাসান হাফিজ। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ড. নাজমা আহমেদ, নূরুল হুদা চৌধুরী, এলাহী নেওয়াজ খান, সদরুল হাসান, ব্যারিস্টার মোস্তফা তাজ এবং মামুনুর রশিদ।

বক্তারা জানান, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৮৬ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর। এর ফলে বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা মানুষের গড় আয়ু ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে এবং বছরে এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দেশের জ্বালানির প্রায় ৫৬ শতাংশ আমদানি নির্ভর। ২০২৪ সালে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে এবং শিল্প উৎপাদন নেমে এসেছে সক্ষমতার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে।

বক্তারা তুলনা করে বলেন, প্রতিবেশী ভারত ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে এবং পাকিস্তান প্রায় ২৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। সেখানে বাংলাদেশ এখনও মাত্র ৫ শতাংশে অবস্থান করছে।

প্রধান বক্তা এম জাকির হোসেন খান বলেন, কার্বন ট্যাক্স আরোপ করলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব। পাশাপাশি কার্বন ট্রেডিং, যাকাত ও দানের মতো বিকল্প উৎস থেকে তহবিল গঠন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে একটি স্থায়ী কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন, যা এই খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি করবে।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান ৭.৯ ট্রিলিয়ন টাকার জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাতে বরাদ্দ মাত্র ২.৯ শতাংশ, যা জরুরি ভিত্তিতে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তারা জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনই এখন সময়ের দাবি।

 

ওএফ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button