ঈদের দিনে অনাথ শিশুদের মুখে হাসি ফুটালেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

নতুন টাকা, নতুন জামা, সুস্বাদু ফল—আর এক নিরাপদ কোল। ঈদের আনন্দের এই সরল অথচ গভীর অনুভূতি যেন ফুটে উঠল চট্টগ্রামের রউফাবাদ এলাকার সরকারি ছোটমনি নিবাসে।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের সকালে সেখানে উপস্থিত হন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, যিনি ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত। আনুষ্ঠানিকতা পাশে রেখে তিনি শিশুদের সঙ্গে মিশে যান একান্ত আপনজনের মতো। সঙ্গে নিয়ে আসেন নতুন পোশাক, ফলমূল এবং ঈদের সালামি হিসেবে নতুন টাকা।
শিশুরা প্রথমে কিছুটা দূরত্ব রেখে তাকিয়ে থাকলেও ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। ছোট ছোট হাতে নতুন নোট তুলে দেওয়ার মুহূর্তে তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও স্বীকৃতির আলো—তাদেরও ঈদ আছে।
তবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন জেলা প্রশাসক একে একে দুই শিশুকে কোলে তুলে নেন। এর মধ্যে ছিল মাত্র দুই মাস বয়সী ইয়াসীন, যাকে মানব পাচার মামলার আসামির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। আরেক শিশু ইশা আক্তার—যার জন্ম ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট, কিন্তু সে জানে না তার জন্মদাতার পরিচয়।
দুটি শিশুকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন জেলা প্রশাসক। সেই দৃশ্য উপস্থিত সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয় গভীর মানবিক আবেগ—যেখানে পরিচয় নয়, ভালোবাসাই মুখ্য হয়ে ওঠে।
ছোটমনি নিবাসের অফিস সহকারী নূর জাহান বলেন, “অনেকেই আসেন, কিন্তু এভাবে সময় দেন না। ঈদের দিন পরিবার ছেড়ে এখানে এসে শিশুদের কোলে নেওয়া—এটা আমরা আগে কখনো দেখি নাই।”
নিবাসটিতে বর্তমানে ১৬ জন শিশু রয়েছে। তাদের অধিকাংশই পরিচয়হীন, কেউ হারিয়েছে পরিবার, কেউ এসেছে অনিশ্চিত অতীত থেকে। তবে এখানেই তারা পাচ্ছে নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ—যত্ন, শৃঙ্খলা এবং ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে।
ঈদের এই দিনে নতুন জামা বা টাকার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একটি দৃশ্য—একটি কোল, যেখানে কোনো প্রশ্ন নেই, নেই পরিচয়ের প্রয়োজন। সেখানে একজন প্রশাসক ও এক অনাথ শিশু—দুজনেই হয়ে ওঠে কেবল মানুষ। এই নীরব মানবিক মুহূর্তই যেন বলে দেয়—ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।



