সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, আরেক আসামি ব্যাংক ম্যানেজার

ঢাকার লক্ষীবাজার শাখার সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জহিরুল ইসলাম সুমনকে ব্যাংকিং নিয়ম মেনে কাজ করায় মামলা খেতে হল। একই ঘটনায় সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমানের (মাসুম মিজান) বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করা হয়েছে।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. শাহারিয়া খানম ৭৫ হাজার টাকা জমা দিতে ব্যাংকে যান। কিন্তু ৫০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বাধ্যতামূলক হওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা তা চেয়ে নেন। অভিযোগ আছে, পরিচয়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ডা. শাহারিয়া কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
পরিস্থিতি সামলাতে শাখা ব্যবস্থাপক সুমন এগিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে তাকে নিজের কক্ষে অবরুদ্ধ করে টাকা জমা নিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে অন্য গ্রাহকের সহায়তায় তিনি বের হতে সক্ষম হন।
ঘটনাটি ‘শ্লীলতাহানি’ অভিযোগ হিসেবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানালে বিতর্কে জড়ান শাখা ব্যবস্থাপক।
ঘটনার প্রায় ১৬ দিন পর সাংবাদিক মাসুম মিজান বিষয়টি অনুসন্ধান করে ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে কোটি ভিউ পায়।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ডা. শাহারিয়া আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন। ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে সাংবাদিককেও আসামি করা হয়।
২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের হয়। সুত্রাপুর থানার পুলিশ তদন্তে জানায়, সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্বেই ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন এবং ব্যাংকারের সঙ্গে তার কোনো যোগসাজশ নেই।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনের শেষাংশে বাদীর অভিযোগ ‘প্রাথমিকভাবে সত্য প্রতীয়মান’উল্লেখ করা হয়েছে। যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ডা. শাহারিয়া খানম বলেন বলেন, ‘আমি সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আমার আইনজীবি বিষয়টি দেখভাল করছেন। পরের প্রক্রিয়া আদালত নিবেন।’
ওএফ



