মুসলমানদের ‘‘চাপে রাখা’’ প্রয়োজন, নইলে সব দখল করে নেবে: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

আসামের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য এবং রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্যে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন রাজ্যের বাংলাভাষী মুসলমান বা ‘মিঁয়া’ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় ব্যাপক হারে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন (SR) প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে প্রায় ৫ লাখ মিঁয়া মুসলমানের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তার মতে, এই সম্প্রদায়কে ‘চাপে রাখা’ প্রয়োজন, অন্যথায় তারা জমি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেবে। তিনি একে অসমীয়াদের ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুধু ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপ নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনেও এই জনগোষ্ঠীর ওপর অর্থনৈতিক ও শারীরিক চাপ তৈরির উস্কানি দিয়েছেন। অটোচালক থেকে শুরু করে দিনমজুর—সব ক্ষেত্রে তাদের বঞ্চিত করা এবং প্রয়োজনে মারধর করার মতো মন্তব্যও তিনি করেছেন। বিরোধী দলগুলোর মতে, এটি সংবিধানের শপথ ভঙ্গ এবং সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বয়ানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
গুয়াহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী একে সংবিধান-বিরোধী ও বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হয়রানি করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষার স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি প্রাক্তন বিজেপি নেতা আমিনুল হক লস্করও একে নির্বাচনে পরাজয়ের ভয় থেকে সৃষ্ট একটি ‘অশান্তি তৈরির কৌশল’ বলে উল্লেখ করেছেন।
আসামের রাজনীতিতে ‘মিঁয়া’ শব্দটি এখন মেরুকরণের প্রধান হাতিয়ার। ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে ‘সরাইঘাটের যুদ্ধ’ স্লোগান দেওয়া বিজেপি এবার ২০২৬ সালের লড়াইকে ‘আদি বাসিন্দা বনাম অনুপ্রবেশকারী’র লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন বা উচ্চ আদালত কী ভূমিকা নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



