Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

জিম্মি জাহাজে আব্দুল্লাহয় অভিযান প্রস্তুতি, দুই দস্যু আটক

সোমালি জলদস্যুদের অপহরণের শিকার এমভি আব্দুল্লাহর জিম্মি নাবিকদের পরিবারগুলো জানিয়েছে, দস্যুরা এখন অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

গত সপ্তাহে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজটি দখলে নেয়ার পর এ কয়দিন নাবিকদের পরিবারের সাথে যোগাযোগসহ ও অন্যান্য কিছু সুবিধা দিলেও গত দুই দিনে তারা সেটিও বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, জলদস্যুদের কবল থেকে জাহাজটি উদ্ধারে অভিযান পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও নাবিকদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে তাতে সায় দেয়নি বাংলাদেশ।

এরআগে বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এমভি আব্দুল্লাহ এবং জিম্মি নাবিকদের জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত করতে সোমালি পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পান্টল্যান্ড অঞ্চলের পুলিশ।

এছাড়া, রোববার এমভি আব্দুল্লাহ ছিনতাইয়ের সাথে অভিযুক্ত দুইজন জলদস্যুকে আটকের কথা জানায় পান্টল্যান্ড পুলিশ।

জিম্মি নাবিকদের পরিবার কী বলছে : নাবিকরা তাদের পরিবারকে জানিয়েছেন, জলদস্যুরা জাহাজে থাকা খাবার শুধু খাচ্ছেই না, সেগুলো নষ্টও করছে। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানান জিম্মি নাবিকরা।

জিম্মি থাকা ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খানের সাথে তার বড় ভাই ওমর ফারুকের সর্বশেষ কথা হয় দু’দিন আগে।

ওমর ফারুক মঙ্গলবার জানান, তখন সে জানিয়েছিলো জলদস্যুরা প্রতিদিন প্রায় একশো জনের খাবার নষ্ট করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় সংকটে পড়তে হবে তাদের।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এমভি আব্দুল্লাহ এবং জিম্মি নাবিকদের জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করতে সোমালি পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় কমান্ডোরা জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি রুয়েনে অভিযান চালিয়ে ১৭ ক্রুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার পর এমভি আব্দুল্লাহতেও অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে এই ধরনের অভিযানের প্রস্তাবে বাংলাদেশের সরকার রাজি হয়নি।

জাহাজটির মালিক কোম্পানি কেএসআরএম গ্রুপও এই ধরনের অভিযানে রাজি নয়।
প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম বলেন, “যে অভিযানে নাবিক ও ক্রুদের জীবন বিপন্ন হয় এমন কোনো অপারেশন আমরা চাই না।”

জাহাজের চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খানের মা শাহানুর বেগম বলেন, “ভারতীয় নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার দেখার পর থেকে ওরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে আমরা জেনেছি। অভিযান চললে আমরা আর আমাদের সন্তানদের জীবিত ফেরত পাবো না। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।”

এখন কোথায় আছে জাহাজটি: পরিবারের সাথে যোগাযোগ না থাকলেও জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণের থাকা জাহাজটির সর্বশেষ অবস্থান মনিটর করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের পাশাপাশি বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশানও (বিএমএমওএ) জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।

দস্যু বাহিনী জাহাজটিকে নিয়ে কয়েক দফায় ভারত মহাসাগরে স্থান পরিবর্তন করে।
জাহাজটির এই গতিপথ ও অবস্থান দেখে বিএমএমওএ বলছে, জাহাজটি জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর প্রথমেই তারা বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজটিকে দেড় দিনের মাথায় সোমালিয়া উপকূলের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

জলদস্যুদের কবলে পড়ার পরদিন বুধবার এটি ছিল সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু উপকূলের কাছাকাছি অবস্থানে। পরবর্তীতে সেটিকে আরো উত্তর দিকে সরিয়ে প্রথমে নেয়া হয় গারদাকে।

এরপরই ভারতীয় নৌবাহিনী জাহাজটি ঘিরে নজরদারি বাড়ালে সেটি আবারো সরিয়ে নেয়া হয় গদবজিরান উপকূলে।

গত তিনদিন ধরে জাহাজটি একই জায়গায় নোঙ্গর করে আছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা জানাচ্ছে, জাহাজটি গদবজিরান শহর থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, “এমভি আব্দুল্লাহ যে জায়গায় ছিল গত তিনদিন ধরে সেখানেই আছে। আমরা আশা করছি এখান থেকেই তারা মালিকপক্ষের সাথে দেন দরবার শুরু করবে।”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button