চট্টগ্রামের মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় করণীয় শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে ‘মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে নগরীর বাইতুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শেখ আবু সালেহ মোহাম্মদ সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. সাইয়্যেদ মাহদী আলীযাদেহ মুসাভী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদী মৌলায়ী অরনি, ইরানের কোম নগরীর ইসলামিক সেমিনারির শিক্ষক ও গবেষক সাইয়্যেদ মোস্তফা মুসাভী এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা কাসেম শাবানকারী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি ইযহারুল ইসলাম চৌধুরী।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ নানা সংকটের মুখোমুখি। এসব সংকট উত্তরণে পারস্পরিক ঐক্য, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের কোনো বিকল্প নেই। তাদের মতে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ সহজ হবে।
বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা দাবি করেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইরানের ইসলামী বিপ্লব আন্তর্জাতিক নানা চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও এগিয়ে চলছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
ওএফ



