প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা কি জায়েজ?

বাংলা টিভি ডেস্ক: বিয়ে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও দায়িত্ব। তবে বর্তমান সময়ে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সমাজে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা যায়। বিশেষ করে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে কি না—এ বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্যে দুই, তিন অথবা চারজনকে বিয়ে করো। তবে যদি আশঙ্কা কর যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনই যথেষ্ট।”
—সুরা আন-নিসা, আয়াত ৩
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, একাধিক বিয়ে ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়; বরং ন্যায়বিচারের শর্তে অনুমোদিত একটি বিষয়।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া ফরজ নয়। বিয়ের মৌলিক শর্ত—ইজাব-কবুল, সাক্ষী ও মোহরানা পূরণ হলে বিয়ে বৈধ হবে। তবে ইসলামের শিক্ষা শুধু বৈধতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ন্যায়, দায়িত্ব ও মানবিক আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেয়।
একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ন্যায়বিচার। ভরণপোষণ, সময়, ব্যবহার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে স্ত্রীদের সঙ্গে সমতা বজায় রাখা ইসলামের নির্দেশ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
“তোমরা কখনোই স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি ন্যায়বিচার করতে সক্ষম হবে না, যদিও তা কামনা কর।”
—সুরা আন-নিসা, আয়াত ১২৯
এ বিষয়ে আলেমদের অভিমত হলো, বিশেষ প্রয়োজন বা শরয়ি কারণ থাকলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যেতে পারে। যেমন—প্রথম স্ত্রীর গুরুতর অসুস্থতা, দাম্পত্য জীবনে অক্ষমতা বা এমন পরিস্থিতি যেখানে স্বামীর গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আলেমরা আরও বলেন, প্রথম স্ত্রীর কোনো সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও শুধু খেয়ালের বশে দ্বিতীয় বিয়ে করলে অনেক সময় পরিবারে অশান্তি ও অবিচার সৃষ্টি হয়, যা ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।”
তাই দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হলেও, প্রথম স্ত্রীর অনুভূতি, অধিকার ও মানসিক অবস্থার প্রতি সম্মান দেখানো একজন মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব। গোপনে বিয়ে করে কারও হক নষ্ট করা বা পরিবারে অস্থিরতা তৈরি করা ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সবশেষে ইসলাম শেখায়—বৈধতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণও সমান জরুরি। দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন মানুষের উচিত নিজের সক্ষমতা, দায়িত্ব এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করা।



