চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি, শ্রমিকদের ১৬ লাখ টাকা বকেয়া পরিশোধ

জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে অবশেষে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা-এর নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
জানা যায়, জে.পি. সনেট লিমিটেড নামের কারখানাটির মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে পরিশোধ করে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক গত ১৪ মার্চ কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
কারখানার প্রতিনিধি সজিব দাস জানান, বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে হয়েছে। প্রশাসনের উপস্থিতিতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ভুক্তভোগী শ্রমিক মো. মনির হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলে তারা ঈদের আগে বেতন পেতেন না। তিনি জানান, ডিসির কঠোর অবস্থানের কারণে মালিকপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
শ্রমিক সংগঠনের নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় যন্ত্রপাতি ও স্টক বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমে ক্রেতা গড়িমসি করলেও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত লেনদেন সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কারখানায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক মোতায়েন রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপস্থিতিতে বৈঠকে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। পরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে ১৮ মার্চ ভোরে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করা হয়।
প্রশাসনের এই কার্যকর পদক্ষেপে টানা চার দিনের শ্রম অসন্তোষের অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ওএফ



