আমারা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই : শফিকুর রহমান

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিকে এগিয়ে নিতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই নির্বাচন কোনো একক দলের বিজয়ের জন্য নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
তিনি বলেন, আমরা জামায়াতের শাসন কায়েম করতে চাই না, আমরা চাই একটি মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এইচজে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ ১২ তারিখের নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ থেকে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায়। এই পরিবর্তন আসবে সমাজের আকাঙ্ক্ষা, মায়েদের নিরাপত্তার উপর ভর করে।”
তিনি বলেন, “আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদকে মানবো না, ফ্যাসিবাদকে দেখতে চাই না। আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার এ দেশে দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।”
শফিকুর বলেন, “আমরা দলীয় কোনো শাসনে এ দেশে দেখতে চাচ্ছি না। আমরা জামায়াতে ইসলামের বিজয় চাচ্ছি না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় দেখতে যাচ্ছি। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিজয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বলেছি চাঁদাবাজি সহ যত দুর্নীতির জট আছে তা কেটে দিতে চাই। এক সময় যারা মজলুম ছিলেন তারা আজ জালিম হয়ে গেছেন। আমরা আশা করবো তারা সংশোধন হবে।”
চৌদ্দগ্রামের মানুষ ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে ভালোভাবে চেনেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তার কাজই তার পরিচয়। জনগণ যদি তাকে নির্বাচিত করে, তাহলে চৌদ্দগ্রাম মন্ত্রিপরিষদে একজন সিনিয়র সদস্য পাবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, ভবিষ্যৎ সরকার হবে জনকল্যাণমূলক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে হবে আপসহীন।
তিনি বলেন, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু যারা সংশোধন হবে না, তাদের বিষয়ে কোনো মায়া দেখানো হবে না।
কওমি মাদ্রাসা বন্ধের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষ পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে।
তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এই বাংলাদেশ গড়া হবে যুবসমাজের হাতেই। ১১ দলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ৬২ জনই তরুণ-এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। এটা হবে তারুণ্যের বাংলাদেশ, যৌবনের বাংলাদেশ।
ঐক্যের সরকার গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকেও জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হবে। তবে শর্ত থাকবে দুর্নীতি পরিহার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জুলাই আন্দোলনের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।
ওএফ



