নানা আয়োজনে বিশ্বজুড়ে বঙ্গমাতার ৯১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গ্রীসে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহ্মেদ।

গ্রীস থেকে সহকর্মী জাকির হোসাইন চৌধুরী জানান, অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং গীতা পাঠ করা হয়। এরপর,রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।পরে বঙ্গমাতার জীবনীর ওপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে গ্রিসের স্থানীয় আইন মেনে, দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তারা, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে, তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত আসুদ আহ্মেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের অসামান্য ত্যাগের জীবন, জাতির পিতার জন্য ছিলো এক অনন্য প্রেরণা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসের সভাপতি হাজী আব্দুল কুদ্দুস, গার্মেন্টস এসোসিয়েশন ইন গ্রীসের সিনিয়র সহ সভাপতি দাদন মৃধা, গ্রীস আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি আলমগীর তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক হাওলাদার, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ গ্রীস শাখার সদস্য শেখ শাহীন আক্তারসহ আরও অনেকে।

সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে পালন করা হয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী
দাম্মাম থেকে সহকর্মী গোলাম কিবরিয়া জানান, অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছার জীবনীর ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হিসেবে তিনি দেশের ক্রান্তিলগ্নে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ।
দূতাবাসের কার্যালয় প্রধান ও মিনিস্টার ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শেষে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১ তম জন্মদিন পালন করা হয়।প্রবাসী সাংবাদিক বাবু সাহা জানান, দূতাবাসের হলরুমে কোরান তেলওয়াত ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমান। দূতাবাসের শ্রম সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তব্য রাখেন লেবানন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।
কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জীবনীর ওপর নির্মিত প্রামান্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
কুয়েত থেকে সহকর্মী আ হ জুবেদ জানান, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ আশিকুজ্জামান। দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির নানা শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশি সহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীর এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, “বঙ্গমাতা সংকটে সংগ্রামে নির্ভীক সহযাত্রী”। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো বানী পাঠ করা হয়। শেষে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা ও তার পরিবারের সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর দূতাবাসে বঙ্গমাতা সংকটে সংগ্রামে নির্ভীক শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আবুধাবি থেকে সহকর্মী এম আব্দুল মান্নান জানান, দূতাবাস মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রাস্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফর। দূতাবাস সচিব লূৎফর নাহার নাজিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাঠানো বানী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের পর, বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন,বঙ্গবন্ধু পরিষদ আবুধাবি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি, শওকত আকবর, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন তালুকদার,জনতা ব্যাংক আমিরাত শাখার সিইও- আমিরুল হাসান ,অধ্যক্ষ মীর আনিসুল হাসান, প্রকৌশলী আশীষ বড়ুয়াসহ আরও অনেকে। রাস্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফর তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্দুর প্রতিটি অগ্রযাত্রায় প্রেরনার উৎস ছিলেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজীব।
শেষে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতাসহ ৭৫ এর সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি দেশ, জাতি, প্রবাসীদের কল্যাণে দোয়া করা হয়।

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী ও জ্যেষ্ঠপুত্র শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
আমাদের বাহরাইন প্রতিনিধি সম্রাট নজরুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, করোনাভাইরাসের কারণে ভার্চুয়া্লি এই দিবস দুটি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। এসময় বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্রের ওপর দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করা হয়। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. নজরুল ইসলাম হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে, তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের অপরিসীম ত্যাগ, বিচক্ষণতা ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বাংলাটিভি/ এস



