বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বলে কিছু হয় না: এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়

বাংলা টিভি ডেস্ক: দীর্ঘদিনের সম্মতিভিত্তিক প্রেমের সম্পর্ক পরবর্তীতে ভেঙে গেলেই সেটিকে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এমন একটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দিয়েছেন আদালত।
সম্প্রতি বিচারপতি বিবেক কুমার সিংহের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের মতে, সম্পর্কের শুরু থেকেই যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে কেবল তখনই বিষয়টি ধর্ষণের অভিযোগের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু পারস্পরিক সম্মতি ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য নয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর দূরসম্পর্কের আত্মীয় সঞ্জয় সরোজের পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং কয়েক বছর ধরে সম্পর্ক চলতে থাকে। পরে ওই নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
তবে মামলার শুনানিতে আদালত দেখতে পান, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং সেটি ছিল পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে। আদালতের মতে, এত দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ককে শুধুমাত্র ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতির কারণে দেওয়া সম্মতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা বাস্তবসম্মত নয়। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ক্ষোভ বা হতাশা থেকে অনেক সময় ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়, কিন্তু প্রতিটি ভাঙা সম্পর্ককে ধর্ষণের মামলায় রূপ দেওয়া আইনের অপব্যবহারের শামিল।
রায়ের সময় এলাহাবাদ হাইকোর্ট ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের নজির তুলে ধরে বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হওয়া আর প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া; দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কেবল সম্পর্কের পরিণতি প্রত্যাশামতো না হলেই ধর্ষণের অভিযোগ টেকসই হয় না। সব দিক বিবেচনায় আদালত অভিযুক্ত সঞ্জয় সরোজের বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক কার্যক্রম বাতিলের নির্দেশ দেন। আদালতের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা ন্যায়বিচারের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



