
রুপালি পর্দায় সবসময় চাকচিক্য আর পরিপাটিভাবে সবকিছু দেখতে পেলেও এর পিছনে পুরোই আলাদা এক জগৎ। পর্দার সামনে যে মানুষগুলো হাসি খুশি আর সুখী মানুষ হিসেবে থাকে অনেক সময়ই দেখা যায় পর্দার আড়ালে তারা সম্পর্কের টানাপোড়েন, কাজের চাপ থেকে শুরু করে নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত।
এর থেকে জন্ম নেয় মানসিক অবসাদ এবং যার শেষ ফল অত্মহত্যার মতো ঘটনা। এরকম বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশও। শোবিজের রুপালি রঙিন জগতেও অনেক তারকা রয়েছেন যারা সেই পথ বেছে নিয়েছেন।
যদিও তাদের অনেকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়েছে, নানা রকম গল্প প্রচলিত রয়েছে তবু তারা আত্মহত্যা করেছেন বলেই ধরে নেয়া হয়।
সালমান শাহ
ঢাকাই সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যু এই ইন্ডাস্ট্রির কাছে দারুণ এক শোকের, আক্ষেপের এবং যাতনার। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে যখন নক্ষত্র হয়ে জেগেছিলেন বাংলা সিনেমার আকাশে ঠিক তখনই নিভে গেলেন সালমান।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অকালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। অভিযোগ উঠে যে, তাকে হত্যা করা হয়; কিন্তু তার সিলিং ফ্যানে ফাঁসিতে হত্যাকাণ্ডের কোনো আইনি সুরাহা শেষ পর্যন্ত হয়নি। তুমুল জনপ্রিয় একজন অভিনেতা কেনে হুট করে আত্মহত্যা করে বসলেন সে প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।
লাক্স তারকা রাহা
২০০৭ সালের ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার’ প্রতিযোগিতায় সেরা দশের তারকা ছিলেন সুমাইয়া আসগর রাহা। লাক্স তারকা হিসেবে শোবিজে পথ চলা শুরু করলেও ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া অনন্ত জলিলের ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি।
ডলি আনোয়ার
তার মতো উচ্চশিক্ষি, উচ্চবংশীয় একজন মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এটা মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। দেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’-তে জয়গুন চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন।
১৯৯১ সালের ৩ জুলাই হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে ডলি আনোয়ার আর নেই। বলা হলো তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কারণ হিসেবে উঠে এলো স্বামীর পরকীয়া। প্রায়ই এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো, বিরোধ হতো। হাঁপিয়ে উঠেছিলেন ডলি। মা নীলিমা ইব্রাহিমের কাছে গিয়েছিলেন সেখানে থাকবেন বলে। মা তাকে আশ্রয় দেননি।
এরইমধ্যে একাধিক নারীতে আসক্ত স্বামী চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন ডলিকে তালাক দিয়ে বসলেন। সেই তালাকের আঘাত সইতে পারলেন না। বেছে নিলেন আত্মহননের পথ। তবে তার মৃত্যুকে অনেকেই নিরব খুন বলেও অভিহিত করেন।
মিতা নূর
নব্বই দশকে টিভির মিষ্টিমুখ মিতা নূর। বিজ্ঞাপন বা নাটক; সবখানেই নিয়মিতই দেখা মিলতো লাস্যময়ী এই অভিনেত্রীর। এমন একজন নারীর জীবনে কী এমন ঘটলো যে হুট করে তিনি আত্মহত্যা করে বসলেন! সেই রহস্য আর জানা যায়নি। ২০১৩ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসার ড্রয়িংরুম থেকে অভিনেত্রী মিতা নূরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নায়লা
লোকনাট্য দল বনানীর একজন সদস্য ছিলেন তিনি। মঞ্চে কাজ করে নিজের অভিনয়ের দক্ষতাও বাড়াতে থাকেন। ‘ললিতা’, ‘পা রেখেছি যৌবনে’, ‘অ-এর গল্প’ ও ‘মুম্বাসা’সহ বেশ কিছু টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি।
কিন্তু হঠাৎ করেই হতাশায় পেয়ে বসে তাকে। কি কারণে তার এই হতাশা, সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ২০১৫ সালের ২০ মার্চ তিনি আত্মহত্যা করেন। শ্যামলীর বাসা থেকে নায়লার সিলিং ফেনে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পিয়াস রেজা
পিয়াস রেজা পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রাজধানীর ভাষানটেকে। ২০১৪ সালের রোজা ঈদের দিন ছিলো। সেদিনই ফ্যানের সঙ্গে প্রেমিকার ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন এই গায়ক।
তার পুরো নাম নাঈম ইবনে রেজা ওরফে পিয়াস। বয়স ছিলো মাত্র ২১। ‘একমুঠো সুখ’ ‘অবশেষে’ ‘সাদাকালো মন’- এর মতো বেশকিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে তরুণ এই কণ্ঠশিল্পীর।
তমা খান
শোবিজে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ আর হলো কই। গেল ৯ মে রাজধানীর মিরপুরে চিত্রপরিচালক শামীম আহমেদ রনির সাবেক স্ত্রী ও অভিনেত্রী তমা খান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।



