
করোনায় বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণ ও সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের কাছে পাঁচশো কোটি টাকা প্রণোদনা চাইলো চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮ সংগঠন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে এ আবেদন করে চলচ্চিত্র পরিবার।
চলচ্চিত্র শিল্প রক্ষার লক্ষ্যে এফডিসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজানের স্বাক্ষর করা চলচ্চিত্র পরিবারের বিবৃতি পাঠ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ১৮ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সেখানে চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। চলচ্চিত্র নির্মাণ বন্ধ থাকায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের রোজগারের পথও বন্ধ। বলা হয় বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা বদল করছেন।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা পারেন, জাতির পিতার হাতে গড়া এই চলচ্চিত্র শিল্প এবং এর সাথে জড়িত হাজার হাজার পেশাজীবি এবং তাদের পরিবারকে রক্ষা করতে। জনদরদী, মানবতার মাতা এবং আধুনিক ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প রক্ষা করা কোন ভাবেই সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি।
তাই সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করা হয়, চলচ্চিত্র পরিবারের প্রস্তাবগুলো হলো:
১, দেশের অন্যান্য শিল্প এবং শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের রক্ষার জন্য যেভাবে সরকারি প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে সেভাবে চলচ্চিত্র শিল্প এবং এই শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের রক্ষা করার জন্য সরকারি প্রণোদনা দেয়া হোক।
২, আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে এই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে রক্ষা করতে সরকারি বাজেট থেকে কমপক্ষে ৫০০(পাঁচশত) কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হোক। এই ৫০০ (পাঁচশত) কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি বিএফডিসির মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেয়া হোক। ১০০ কোটি টাকা দেয়া হোক যারা নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, সেসব প্রযোজকদেরকে। বাকি ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হোক নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ ও পুরনো প্রেক্ষাগৃহগুলি সংস্কার করার জন্য।
৩, গভীরভাবে এই চলচ্চিত্র শিল্পকে জানেন, বোঝেন, ভালবাসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর চলচ্চিত্রকে নিয়ে করা পরিকল্পনাকে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে যিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন এমন কাউকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হোক।
৪, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অচিরেই সিনেমা হল খোলার অনুমতি প্রদান করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। তাহলে প্রযোজকরা নতুন করে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।



