Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
হেলথ টিপস

ছেলেদের চুল পড়ার কারণ ও করণীয়

চুল পড়া একটি ভয়ঙ্কর সমস্যা। নারীপুরুষ উভয়েরই এই সমস্যা হয়ে থাকে। বিভিন্ন কারণে চুল পড়তে পারে। বংশগত, পরিবেশগত, দুশ্চিন্তা ও পুষ্টিহীনতাসহ নানা কারণে চুল পড়তে পারে। প্রথম দিকে চুল কম পড়লেও আস্তে আস্তে চুল পড়ার হার অনেক বেড়ে যায়। তাই শুরু দিকে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হলে, চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব। ফিজিওলজিক্যাল এলোপেসিয়ায় সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ৫০/১০০টি চুল পড়ে যায়।

এই পড়ার তুলনায় গজানোর পরিমাণ যদি কমে যায় তখন মাথার চুল কমতে শুরু করে। তবে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে এন্ড্রোজেনিক এলোপেসিয়ায় চুল পড়া সাধারণত বেশি দেখা যায়। ইহা সাধারণত মাথার নির্দিষ্ট কোনো একটি জায়গায় চুল পড়ে যায়। যেমন কপালের দুই সাইড থেকে অথবা মাথার মাঝখান থেকে যাহা সাধারণত এন্ড্রোজেনিক হরমোনের আধিক্যের কারণে হয়ে থাকে। চলুন জানা যাক, চুল ঝরে যাওয়ার কারণ ও তা সমাধানের উপায়।

• চুল পড়ার কারণ:

১. হরমোন: কিছু হরমোন আছে যা চুল পড়াকে ত্বরান্বিত করে। যেমন অ্যানড্রোজনিক, টেস্টোস্টেরন, অ্যান্ড্রোস্ট্রেনডিয়ন, ডিএইচটি হরমোনগুলো সাধারণত পুরুষের বেশি। হেয়ার ফলিকলের ওপর সাধারণত এই হরমোনগুলো কাজ করে থাকে এবং চুল পড়া ত্বরান্বিত করে। এই কারণে পুরুষের চুল বেশি পড়ে।

২. বংশগত: চুল পড়ার অন্যতম একটি কারণ বংশগত। বংশে কারো টাক থাকলে আপনারও টাক হওয়াটা স্বাভাবিক।

৩. চর্মরোগ: একজিমা, সোরায়সিস, ডার্মাটাইটিস ইত্যাদি চর্মরোগের কারণে অথবা মাথায় খুশকির কারণে ও চুল পড়ে যেতে পারে।

৪.স্বাস্থ্যগত সমস্যা: প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল এর অভাবেও চুল পড়তে পারে। অনেকসময় দূরারোগ্য কিছু রোগে আক্রান্ত হলেও প্রচুর চুল পড়ে।

৫. মাদকাসক্তি: অ্যালকোহল, ড্রাগস এসবের আসক্তি আপনার মাথার মূল্যবাণ চুলগুলোকে অসময়ে কেড়ে নিতে পারে। এমনিতেই এসবের কুফল অনেক। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও প্রচুর।

• সমাধানের উপায়:

১. প্রোটিন: চুল পড়া বন্ধের অন্যতম একটি উপাদান হলো প্রোটিন, কেন না চুল গঠনের অন্যতম উপাদান হলো কেরাটিন যা অ্যামাইনো এসিড দিয়ে তৈরি এক ধরনের প্রোটিন। এই অ্যামাইনো এসিড নতুন চুল গজানোর জন্য সহায়তা করে। মাছ, মাংস,পনির, দুধ, ডিম, সয়াবিন, মটরশুটি, কলা, বাদাম ইত্যাদি খাবারে প্রচুর অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।

২. পানি: শরীরের পানির ঘাটতি হলে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন বেশি বেশি পানি পান করার অভ্যাস করুন চুল পড়া কমে যাবে।

৩. আদা রসুন ও পেয়াজের রস: এই তিনটি উপাদানের যে কোনো একটি আপনি চুলের গোড়ায় নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পরা কমাতে পারেন।

৪. নিমপাতা: তাজা নিমপাতা বেটে তাতে সামান্য অ্যাপেল সিডার ভিনেগার নিয়ে মাথায় লাগান। কিছুক্ষণ পর হালকা কোনো শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনি প্রতি সপ্তাহে এক বা দুই বার এই থেরাপি অনুসরণ করলে চুল পড়া কমে যায়।

৫. ব্যবহার করুন ভালো তেল: যারা চুল পড়া ও চুলের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে চিন্তিত, তারা কয়েক মিনিটের জন্য হলেও সপ্তাহে ২–৩ বার মাথায় ভালো মানের কোনো তেল ম্যাসাজ করুন। যেমন–তিলের তেল, বাদাম তেল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো আপনার চুলের ফলিকলগুলোকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করবে। আর মাথায় নতুন চুল গজানোর জন্য বা চুল ঘন করার উপায় হিসেবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করতে পারেন

৬. এড়িয়ে চলুন অ্যালকোহল ও সিগারেট: অ্যালকোহল আপনার চুলের বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটায়। চুলের সুস্থতা বজায় রাখতে হলে অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন। সিগারেট আপনার স্কাল্পে রক্ত সঞ্চালনে বাঁধা দেয় যার ফলে চুলের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। সুতরাং, অ্যালকোহল, ড্রাগস ও সিগারেট থেকে দূরে থাকুন।

৭. পরিষ্কার রাখুন চুল: প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও বাইরে ঘোরাঘুরির জন্য আপনার চুলে জমা হয় অনেক ময়লা। এতে করে খুশকিও বৃদ্ধি পায়। তাই চুলে ভালো অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে চুল। গোসলের আগে কিছু ক্ষণের জন্য লেবু এবং পেঁয়াজের রস ব্যবহার করলেও পাবেন অনেক উপকার।

৮. কমিয়ে দিন দুশ্চিন্তা: অনেকে ক্ষেত্রেই পুরুষদের চুল পড়ে মানসিক চাপ বা দুঃশ্চিন্তা থেকে। তাই এগুলো কমাতে হবে। আর কমানোর জন্য ইয়োগা, মেডিটেশন খুব উপকারী। নামাজ বা প্রার্থণা করাও আপনাকে সহায়তা করবে দুশ্চিন্তা কমাতে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button