বৈবাহিক অবস্থা থেকে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি: গবেষণা

বাংলা টিভি ডেস্ক: ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে নানা কারণ কাজ করে—যেমন বংশগত প্রভাব, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে আরেকটি আকর্ষণীয় তথ্য। গবেষকদের মতে, একজন মানুষের বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গেও ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে।
চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী Cancer Research Communications-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনও বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে ক্যানসার এড়াতে বিয়ে করাই একমাত্র উপায়। বরং বিবাহিত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ইতিবাচক অভ্যাস এবং সামাজিক সমর্থন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিনের সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের গবেষকেরা প্রায় ১০ কোটি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। আট বছরের তথ্যভান্ডার থেকে প্রায় ৪০ লাখ ক্যানসার রোগীর উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, অবিবাহিত নারীদের জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিত নারীদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। একইভাবে অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিবাহিত পুরুষদের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রেও এই ব্যবধান উল্লেখযোগ্য; অবিবাহিত নারীদের ঝুঁকি প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মূল কারণ বিয়ে নয়, বরং জীবনযাপনের ধরন। অনেক অবিবাহিত ব্যক্তি তুলনামূলক বেশি ধূমপান করেন, অ্যালকোহল সেবন করেন বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া বিবাহিত ব্যক্তিরা সাধারণত জীবনসঙ্গীর উৎসাহে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্ক্রিনিং এবং চিকিৎসা গ্রহণে বেশি সচেতন থাকেন। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখাও তাদের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা একাকিত্বও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই শুধু বৈবাহিক সম্পর্ক নয়, বরং শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ, পারিবারিক সমর্থন এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ একজন মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, বিয়ে না করলেই যে ক্যানসার হবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ক্যানসার একটি জটিল রোগ, যার পেছনে বহু জৈবিক, পরিবেশগত ও জীবনধারাগত কারণ কাজ করে। অনেক অবিবাহিত মানুষও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে থাকেন বা শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে জীবনযাপন করেন, যা তাদের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বৈবাহিক অবস্থার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা।



