প্রশিক্ষণসহ কাজের ব্যবস্থা করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর্ণ এন্ড লিভ

সারাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় প্রতিবন্ধী মানুষ ও বেকার অসহায়দের শিক্ষা, প্রশিক্ষণসহ কাজের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর্ণ এন্ড লিভ। এতে বহু প্রতিবন্ধী ও বেকার যুবক উদ্যোক্তা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর সমাজের অবহেলিত অসহায় প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে যাওয়া এই মানবিক সংগঠনটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
মির্জাপুরের আবু বকর সিদ্দীকের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা,শুরুতে এত সহজ ছিল না। জন্মের পর থেকেই হাত-পা বিকলাঙ্গ এই শিশু, দিনে দিনে পরিবারের বোঝা হয়ে উঠেছিল।
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংগঠন “আর্ন এন্ড লিভের” স্পেশাল নিড স্কুলে অধ্যয়ন করে কম্পিউটারের প্রতি অধিক আগ্রহ থাকায়, স্কুলেই তাকে লেখা পড়ার পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষন দেয়া হয়। এরপর আর্ন এন্ড লিভের পক্ষ থেকে তাকে একটি কম্পিউটার কিনে দেয়া হয়।
বর্তমানে সেই কম্পিউটারই তাকে পঙ্গুত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়েছে। বাসায় বসেই অনলাইন,অফলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে, পাঁচ সদস্যের সংসার চালাচ্ছে আবু বকর সিদ্দীক ।
শুধু সিদ্দীক নয়,একই উপজেলার দেওহাটা এলাকার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী লোকমান। তিনিও আর্ন এন্ড লিভের স্পেশাল নিড স্কুলের ছাত্র। স্কুলে যাতায়াতের পাশাপাশি তাকে আর্ন এন্ড লিভের অর্থায়নে, স্থানীয় মসজিদের ইমামের মাধ্যমে হাফেজি পড়ানো হচ্ছে।
লোকমানের অন্ধত্বের জন্য তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে, চার মাস আগে বাবা তাকে ফেলে রেখে যায়। মাকে নিয়ে বড় কষ্টে কাটছিলো তাদের জীবন। অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ায় লন্ডনভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর্ন এন্ড লিভ।
প্রতিষ্ঠানটি লোকমানের পড়াশোনার দায়িত্বসহ, পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য করে দেন, মুরগীর খামার। প্রতিষ্ঠানটির এমন সব উদ্যোগে খুশি স্থানীয়রা।
এসব পথ শিশু ও প্রতিবন্ধীদের ভিন্ন রকম দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে,আলোকিত করার স্বপ্ন দেখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াসমিন জেসী।
অসহায় মানুষ বিশেষ করে পথশিশু ও প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করায়, আর্ণ এন্ড লিভের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
২০০০ সালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি গড়ে তোলেন ফরিদা ইয়াসমিন জেসি। স্বার্থহীনভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন প্রতিষ্ঠান সমাজে আরো বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন, স্থানীয় সুধীজনেরা।
ডেস্ক রিপোর্ট/ বাংলা টিভি/এস



