টঙ্গীতে অস্ত্র মহড়া, বিএনপি নেতা কামাল বহিষ্কার

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অস্ত্র প্রদর্শন ও মোটরসাইকেল মহড়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামি ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বুলুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় পদের পাশাপাশি তার প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বেপারী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। দলীয় নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন ও সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাহ্ উদ্দিনের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. কামাল হোসেন বুলুর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদসহ দলীয় সব ধরনের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শন ও মোটরসাইকেল মহড়ার ঘটনায় ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান জামান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপি ও যুবদলের ১৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন কামাল হোসেন বুলু।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বাদী নুরুজ্জামান জামান। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডল, কামাল হোসেন বুলু এবং ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মো. খালেক তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন ২৮ জুন অভিযুক্তদের নেতৃত্বে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্ত্রসহ মহড়া দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, মহড়ার সময় কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের ঝুট বিক্রি না করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এতে শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে শিল্পাঞ্চলের প্রধান সড়কে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর এবং কয়েকজনকে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। এর পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং অভিযানে নামে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা কামাল হোসেন বুলুর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।



