Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

বদলির এক সপ্তাহ পরও কর্মস্থল ছাড়েননি সেই বিতর্কিত এসিল্যান্ড

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: বদলির আদেশ জারির আট দিন পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আলোচিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন এখনো নতুন কর্মস্থল পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় যোগদান করেননি।

বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তিনি এখনো ছাড়পত্র (রিলিজ) গ্রহণ করেননি। বরং বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে আরও কিছুদিন সাদুল্লাপুরে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বদলি বাতিল বা স্থগিত করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমনকি স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমেও তদবির করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল কাউনিয়া উপজেলায় বদলি এবং ২৪ মার্চ সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি হলেও তিনি সাদুল্লাপুর ছাড়েননি। একের পর এক বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনিক মহল ও উপজেলাজুড়ে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার (২৪ জুন) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সরকারের অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সময় যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক জিল্লুর রহমান পলাশ এবং সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে বিভাগীয় তদন্তের প্রেক্ষাপটে তাকে বোদায় বদলি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বদলির এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও তাকে অবমুক্ত (রিলিজ) করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বোদায় যোগ দিতে অনাগ্রহী এবং বদলি স্থগিতে এখনো সক্রিয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনা ও বদলির আদেশের পর থেকে এসিল্যান্ড মো. জসিম উদ্দিন অনিয়মিতভাবে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে আসছেন। গত ২১ জুন বিভাগীয় তদন্তে উপস্থিত হওয়ার পরদিন ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের কাজে অংশ নেন। এরপর কয়েকদিন অফিসে অনুপস্থিত থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার অল্প সময়ের জন্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে কর্মস্থল ত্যাগ ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অফিসের কর্মচারীরা জানান, দুপুরের পর স্যার অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন। এর আগে দুপুর পর্যন্ত তিনি এসএসসি পরীক্ষার নলডাঙ্গা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা আমাদের জানা নেই। তবে কর্মস্থল ত্যাগ বা যোগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে সাংবাদিক হেনস্থা এবং অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বদলির আদেশ কার্যকর না করে তদবিরের উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করায় প্রশাসনিক মহলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, তার এ আচরণ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

জসিম উদ্দীনের বদলি ও ছাড়পত্রের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বোদায় যোগ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় তিনি এখনো রিলিজ নেননি। বদলি স্থগিত করে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চেষ্টাও করছেন তিনি।

বদলির আদেশের পরেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বদলির আদেশ হওয়ার পরও তিনি কেন যোগদান করেননি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিক হেনস্থা ও অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। পাশাপাশি নতুন অভিযোগগুলোরও যাচাই-বাছাই চলছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button