ভাড়া বাসা থেকে নার্সের মরদেহ উদ্ধার, পাশে কাঁদছিল দুই শিশু

বাংলা টিভি ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ভাড়া বাসা থেকে লাকি আখতার (৩০) নামে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) রাতে উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘরের ভেতরে মায়ের মরদেহের সামনে তার দুই সন্তানকে কান্নারত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত লাকি আখতার পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রামনকুমার ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হুদার মেয়ে। তিনি গুনিয়াউক ১০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। কর্মস্থলের পাশে একটি বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট থেকে নয় বছর আগে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের শরীফ আহমেদের সঙ্গে লাকির বিয়ে হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গুনিয়াউক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেওয়ার পর তিনি সন্তানদের নিয়ে নাসিরনগরে বসবাস শুরু করেন। দুই দিন আগে তার স্বামী সেখানে বেড়াতে আসেন।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে শরীফ আহমেদ বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে বাড়ির মালিক সুবল মিয়াকে বিষয়টি জানান। সুবল মিয়া বাসায় গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান এবং ঘরে দুই শিশুকে কান্নাকাটি করতে দেখেন। পরে ভেতরের কক্ষে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে লাকি আখতারের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
বাড়ির মালিক সুবল মিয়া জানান, নিহতের স্বামীর অনুরোধে তিনি বাসায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য, ঘটনার দিন দুপুর পর্যন্ত লাকি আখতার হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাসায় ফেরার পর কোনো একসময় ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় ময়নাতদন্ত এবং তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের স্বামী শরীফ আহমেদ দাবি করেছেন, তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো ধরনের বিরোধ বা পারিবারিক কলহ ছিল না এবং তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে পারিবারিক কলহের বিষয়টি শোনা গেলেও প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।



