Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশ

মা ও তিন মেয়ের পাশাপাশি দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র জীবিত সন্তান সিফাত

বাংলা টিভি ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত মা ও তিন মেয়েকে তাদের নিজ জেলা কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফার (১০) মরদেহ উপজেলার লটিয়া গ্রামে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয়দের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

পরে জানাজা শেষে নিহত শাহীনুর বেগমের স্বামী প্রয়াত মো. কামালের বাড়ির পাশে তাদের পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন করা হয়। জানাজা পরিচালনা করেন মুফতি সামসুল হক আরিফী। এতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

জানাজায় হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এদিকে, ঘটনার সময় বাসার বাইরে থাকায় একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত প্রাণে বেঁচে যায়। এসএসসি পরীক্ষার্থী এই কিশোরই ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একা হাতে তার মা ও তিন বোনের মরদেহ হোমনায় নিয়ে আসে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে সে এখন গভীর শোকে বাকরুদ্ধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে একই ভবনে ভাড়া থাকতেন অন্তর মজুমদার। পরে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। তাদের ধারণা, বাসা ভাড়ার টাকা ও স্বর্ণালংকারের লোভেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন।

নিহত শাহীনুর বেগমের ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, তার বোনের স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা উদঘাটনের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button