দৌলতপুর সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও বাংলাদেশে লোক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। চলতি জুন মাসে কুষ্টিয়া সীমান্তে এ নিয়ে চার দফায় পুশইনের চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির আশ্রয়ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ঘাট এলাকার ১৫৪/১০-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে স্থানীয় সীমান্তবাসী ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান এবং বাধার মুখে ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বর্তমানে ওই ব্যক্তি ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “বৃহস্পতিবার আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত দিয়ে ১০ জন এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেত চেয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও বিজিবির প্রতিরোধের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”
এর আগে গত ১২ জুন শুক্রবার ভোরে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে ১৫ জুন সকালে সীমান্তে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখোমুখি অবস্থানের পর বিজিবি ও স্থানীয়দের অনড় অবস্থানের মুখে বিএসএফ পিছু হটে। পরবর্তীতে ওই ১২ জন নারী ও শিশুকে ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
একই দিনে (১২ জুন) দিবাগত রাতে দৌলতপুর সীমান্তের আরও দুটি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে নতুন করে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আরও আটজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এরপর ১৪ জুন ভোরে মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া বিওপির আওতাধীন ৮৫/১৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকায় আরও একজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ তাকে পুনরায় নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের প্রায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অবৈধ যাতায়াত রোধে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



