
বাংলা টিভি ডেস্ক: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘলবাগ গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বিধবা নারীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহত ওই নারীর জবানবন্দি নিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
আহত নারী জানান, ৬-৭ বছর ধরে দিঘলবাগে সরকারের নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে তিনি তার এক সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সেখান থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে তার প্রতি কুনজর দেয় দিঘলবাগ গ্রামের সোহেল মিয়া। তিনি প্রায় সময়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তাকে হয়রানি করে আসছেন। ৫-৬ দিন পূর্বে সোহেল তাকে অতিরিক্ত উত্ত্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে সোহেল মিয়া তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে ওই নারীর দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে ওই নারী দরজা খুলে দিলে তারা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দিলে তাকে বেধড়ক মারপিট করে চলে যান তারা। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বুধবার সকালে ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান গোপায়া ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মান্নান। পরে তিনি বিষয়টি সদর মডেল থানায় অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিত নারীর জবানবন্দি নেয়।
গোপায়া ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মান্নান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিভিন্ন সময় হামলাকারীদের সতর্ক করেছি। সালিশ করেছি; কিন্তু মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ করে তারা ওই নারীর ঘরে গিয়ে অমানবিকভাবে মেরেছে। খবর পেয়েই আমি সকালে হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি যেন তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক জানান, ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।



