মাছির যন্ত্রণায় শ্বশুরবাড়ি যাওয়া বন্ধ

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে একটি মুরগির খামারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, খামারে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মুরগির বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় পুরো এলাকায় পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় তিন মাস ধরে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। খামারের জমে থাকা বিষ্ঠা ও বর্জ্য থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অসংখ্য মাছি আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ায় খাবার সংরক্ষণ ও রান্নাবান্নাও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
দেওপাড়া ইউনিয়নের ওই গ্রামে প্রায় ১২০টি পরিবার বসবাস করে। বাসিন্দারা জানান, খামারের পরিবেশগত অব্যবস্থাপনার কারণে পুরো গ্রামজুড়ে এখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাছির উপদ্রবে ঘরের ভেতরেও খাবার ঢেকে রাখার পরও তা ব্যবহারযোগ্য থাকছে না বলে অভিযোগ তাদের।
গ্রামের বাসিন্দা রোহেনা বেগম বলেন, খাবার পরিবেশন করলেই প্লেটে মাছি বসে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অতিথি আপ্যায়নও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, এই সমস্যার কারণে আত্মীয়স্বজন, এমনকি মেয়ে-জামাইরাও এখন আগের মতো আসতে চান না।
আরেক বাসিন্দা লিপি খাতুন জানান, ছোট শিশুরাও এই পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। মাছির কারণে সবসময় মশারি টানিয়ে রাখতে হচ্ছে এবং ঘরে খাবার রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান মেলেনি। গত মে মাসে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং দুর্গন্ধনাশক ব্যবহার না করার কারণে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিবেদনটি পরে পরিবেশ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই শেষে দ্রুতই খামারমালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, দুর্গন্ধ ও মাছি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এলাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে খামারমালিক মো. স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



