Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঅপরাধআইন-বিচার

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

বাংলা টিভি ডেস্ক: নেত্রকোণায় স্ত্রী পারভীন আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী শফিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.কে.এম. এমদাদুল হক বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। তবে মামলার অপর দুই আসামি সখিনা খাতুন ও তোরাব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের পারভীন আক্তারের সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে পারভীনের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে শফিকুল এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পারভীন সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।

এর এক মাসেরও কম সময় পর, ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে পারভীনের মৃত্যুর খবর পান তার স্বজনরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বাড়ির বারান্দায় তার মরদেহ দেখতে পান। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু ইউসুফ বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ কয়েকজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত শফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নুরুল কবির রুবেল বলেন, এটি একটি আলোচিত হত্যা মামলা ছিল। আদালতের রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button