খুলনায় ১৮ দিন ধরে খাবার খাচ্ছে না খানজাহান আলীর মাজারের কুমির

বাংলা টিভি ডেস্ক: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধার করা মিঠাপানির কুমিরটি গত ১৯ দিন ধরে কোনো ধরনের খাবার গ্রহণ করেনি। চলতি মাসের ৩ জুন খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনার পর থেকে মাছ, মাংস, মুরগি এমনকি জীবন্ত হাঁস দেওয়া হলেও প্রাণীটি কিছুই খায়নি।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৪৫ বছর বয়সী এই মাদী কুমিরটির শরীরে প্রচুর চর্বি জমে থাকায় আপাতত অনাহারে থাকলেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে দীর্ঘদিন খাঁচাবন্দি থাকায় এটি মানসিক চাপে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১ জুন মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বন বিভাগের বিশেষ দল কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
বর্তমানে প্রাণীটিকে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। নিয়মিত পানি পরিবর্তন, কৃত্রিম শাওয়ারের মাধ্যমে গোসল এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করা হলেও কুমিরটি এখনো স্বাভাবিক আচরণে ফিরেনি। এক পর্যায়ে একটি মুরগিকে কামড় দিলেও সেটি না খেয়ে ছেড়ে দেয়।
খুলনা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, সরীসৃপ প্রাণীদের বিপাকক্রিয়া ধীর হওয়ায় তারা দীর্ঘ সময় না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। মাজারের দিঘিতে মানুষের দেওয়া অতিরিক্ত খাবারের কারণে কুমিরটি অত্যন্ত স্থূল হয়ে পড়েছে। ফলে শরীরে জমে থাকা চর্বি ব্যবহার করে আরও এক থেকে দুই মাস অনায়াসে টিকে থাকতে পারবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, কুমিরটি প্রায়ই খাঁচার গেটে ধাক্কা দেয় এবং বড় পরিসরে চলাফেরার চেষ্টা করে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্ত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার প্রবল প্রবণতা তার মধ্যে কাজ করছে।
তবে কুমিরটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ এটি মিঠাপানির কুমির, আর সুন্দরবনের পরিবেশ লবণাক্ত পানিনির্ভর। সেখানে ছেড়ে দিলে প্রাণীটি টিকে থাকতে পারবে না।
মাজারের দিঘিতে কুমিরটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর। বন বিভাগের মতে, দর্শনার্থী ও কুমির—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অন্যথায় প্রাণীটির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রাথমিকভাবে আরও অন্তত এক মাস কুমিরটিকে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রেই রেখে তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।



