‘জুয়া খেললে স্ত্রী হবে মা, বাবা হবে ভাই!’

বাংলা টিভি ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের দেওয়া সালিশি রায় নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধি। গত শুক্রবার গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে জুয়াড়িদের নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আটক এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর হাতে সোপর্দ করার সময় ইউপি সদস্য ভবিষ্যতে জুয়া খেললে ‘অদ্ভুত শপথ’ করান, যেখানে বলা হয়—আবার জুয়া খেললে স্ত্রীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করতে হবে। একইভাবে আরেকজনকে তার বাবার সামনে এমন শর্তে প্রতিজ্ঞা করানো হয় যে ভবিষ্যতে জুয়া খেললে বাবাকে ‘ভাই’ বলে ডাকতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল অদ্ভুত শপথ করিয়েই থেমে থাকেননি ওই ইউপি সদস্য। বরং সালিশের আড়ালে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা গাঁজা পুলিশের কাছে না দিয়ে নিজের উদ্যোগেই সালিশ বসিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
তবে ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বিষয়টি নিয়ে বসেছিলেন এবং পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, জরিমানার সিদ্ধান্ত মোবাইল হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি থানাকেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, কোনো জনপ্রতিনিধির পক্ষে এভাবে সালিশ করে বিচার বা জরিমানা করার আইনগত এখতিয়ার নেই। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।



