Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঅপরাধ

‘ডাক্তার বানাবো বলে দামি স্কুলে দিয়েছিলাম, সেই স্কুলই কেড়ে নিলো আমার কলিজার প্রাণ’

বাংলা টিভি ডেস্ক: “ছেলেকে মানুষ করে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন নিয়েই তাকে ভালো স্কুলে ভর্তি করেছিলাম। অথচ আজ সেই স্কুল থেকেই ফিরলো তার নিথর দেহ। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?”

কান্নাভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আবাসিক বিদ্যালয়ের নির্যাতনে নিহত অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের মা শারমিন আক্তার। সন্তানের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার।

স্বজনদের সামনে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। বিলাপ করে বলছিলেন, তার ছেলে প্রায়ই স্বপ্ন দেখাত—একদিন বড় হয়ে মাকে বিদেশে নিয়ে যাবে, সুন্দর সুন্দর পোশাক কিনে দেবে। সেই সব স্বপ্ন এখন শুধুই স্মৃতি।

মায়ের কান্নার সঙ্গে কাঁদছিলেন বাবা জিয়াউদ্দিনও। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি আইফোন চুরির সন্দেহে তার ছেলেকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই মোবাইল কিনে দিতেন। কিন্তু কেন একটি শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালানো হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিতে এলেও শোক যেন আরও গভীর হয়ে উঠছে। সন্তান হারানোর বেদনায় পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।

জানা গেছে, রামগঞ্জের উদয়পুরে অবস্থিত ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলে এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেহেদী হাসানকে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাকে হলের একটি কক্ষে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর ও নির্যাতন করে। একপর্যায়ে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পরে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তের স্বার্থে বিদ্যালয়টি এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা জিয়াউদ্দিন বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button