Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক ‘ধর্ষণ’ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে সব পরিস্থিতিতে ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয় না বলে গুরুত্বপূর্ণ এক রায়ে মন্তব্য করেছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

সম্প্রতি বিচারপতি বিবেক কুমার সিং–এর একক বেঞ্চ এ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দেন। আদালতের মতে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী যদি স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তাহলে পরবর্তীতে বিয়ে না হওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত উল্লেখ করে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল—এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকলেই কেবল ধর্ষণের অভিযোগ প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যথায় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা বিয়ে না হওয়ার ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা যাবে না।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। পরে নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছিল। তবে তদন্তে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, অভিযোগ দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট নারী ও অভিযুক্ত পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ পরিস্থিতিতে আদালতের মতে, মামলাটি মূলত বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে প্রতীয়মান হয়।

রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের প্রতিটি শারীরিক সম্পর্কের পেছনে কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতি কাজ করেছে—এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। সম্পর্কের অবনতি বা মতবিরোধকে প্রতারণা বা ধর্ষণের সমতুল্য হিসেবে দেখা যাবে না।

সব দিক বিবেচনায় আদালত মামলাটিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলমান আইনি কার্যক্রম বাতিল করে দেয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button