মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধের নির্দেশ ডিসি সারওয়ারের

বাংলা টিভি ডেস্ক: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা, দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
শুক্রবার (২০ জুন) জুমার নামাজের আগে হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার মসজিদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং দানের জন্য ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, ওলি-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত এসব ধর্মীয় স্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় মেডিকেল সেবা কেন্দ্র, নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দান ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ভক্তদের দেওয়া অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে সে বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য হাতে হাতে দান সংগ্রহের পরিবর্তে দানবাক্সভিত্তিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
তিনি আরও জানান, মাজারের দানের অর্থ সরকারি কোষাগারে নেওয়া হবে না; বরং মাজারের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
মাজার এলাকায় মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, পবিত্র ধর্মীয় স্থানে কোনোভাবেই মদ, গাঁজা বা অন্য কোনো মাদকসেবনের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মাজারকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে এবং এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে যাতে দর্শনার্থীরা এখানে এসে আধ্যাত্মিক শান্তি ও পবিত্রতার অনুভূতি লাভ করতে পারেন।
এদিকে মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন ও ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও খাদেমদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ পুরোনো দান ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



