
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত যুবককেও। শনিবার (২০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম তার বড় ভাই মো. ফরহাদুল ইসলামকে অপহরণের অভিযোগে গত ১৯ জুন কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ফরহাদুল ইসলাম ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় পরিচয়ের সূত্র ধরে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা ইমাম হোসেনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে গাজীপুরে ডেকে আনা হয়।
গত ১৬ জুন রাতে ফরহাদুল ইসলাম কালীগঞ্জের ঘোড়াশাল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় অপহরণকারীরা ফরহাদুল ইসলামের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, কুড়াল ও লোহার পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পাশাপাশি তার হাতে সিগারেটের ছ্যাঁকা এবং পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অপহরণকারীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বারবার টাকা দাবি করে। প্রিয়জনকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় পরিবার অভিযুক্তদের বিকাশ নম্বরে তিন দফায় মোট ১৫ হাজার টাকা পাঠালেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
পুলিশ জানায়, ১৯ জুন ভোরে জামালপুর এলাকায় টহল ডিউটির সময় সন্দেহভাজন একটি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অপহৃত ফরহাদুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ইমাম হোসেন (৩৮), ইমরান হোসেন (৩১), তারেক খন্দকার (১৯) এবং মাসুদুজ্জামান দুলাল (৪০)। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের পাঁচ হাজার টাকা এবং ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।



