মুসলিমদের ঈদের নামাজ পড়তে না দেওয়া রেড রোড যোগ দিবসের জন্য ৭ দিন বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী ২১ জুন কলকাতায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন শহরের ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে অনুষ্ঠিত হবে যোগ দিবসের প্রধান অনুষ্ঠান। এই আয়োজনকে সামনে রেখে প্রশাসন ১৪ জুন রাত ১০টা থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রেড রোডে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কলকাতা পুলিশের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুষ্ঠান প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেড রোড এবং সংলগ্ন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। পণ্যবাহী ট্রাক ও লরির ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা কমাতে বিকল্প ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিবহন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্দেশনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’।
এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিএমের যুব নেতা শতরূপ ঘোষ। তার অভিযোগ, অতীতে ঈদের নামাজ নিয়ে আপত্তি জানানো রাজনৈতিক শক্তিগুলো এখন সপ্তাহব্যাপী যোগ কর্মসূচির জন্য রেড রোড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।
তার বক্তব্য, ঈদের দিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য নামাজ আদায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক তৈরি করা হলেও, এবার যোগ দিবস উপলক্ষে টানা কয়েক দিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শতরূপ ঘোষ আরও বলেন, দুর্গাপূজার সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মণ্ডপ নির্মাণের কারণে রাস্তার অংশ ব্যবহার করা হলেও তা নিয়ে খুব বেশি প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু রেড রোডে অল্প সময়ের জন্য ঈদের জামাত আয়োজনকে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলা হয়েছে। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবেই ঈদের নামাজের স্থান পরিবর্তন করে ইডেন গার্ডেন্সে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকেও সমালোচনার মুখে ফেলেন তিনি। তার অভিযোগ, শাসকদলের কয়েকজন নেতা ও বিধায়ক বিরোধী শিবিরের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়ে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, বিতর্কের মূল বিষয় রাস্তা বন্ধ রাখা নয়, বরং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার সীমিত করার প্রবণতা।
ধর্মীয় গ্রন্থের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি বলা হয় কোরআনে রেড রোডে নামাজ পড়ার কথা উল্লেখ নেই, তাহলে ভারতের কোনো ধর্মগ্রন্থে রেড রোডে যোগব্যায়াম আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে কি না। তার দাবি, একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং ক্ষমতার প্রভাবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।



