Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশ

মাটি-খড়ে গড়া মেসি, একনজর দেখতে ভিড়

গাইবান্ধা প্রতিনিধি (ডিজিটাল): ফুটবল বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো বড় টুর্নামেন্ট এলেই আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের উন্মাদনায় মুখর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। সেই উন্মাদনার রেশ এবার ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধার এক প্রত্যন্ত গ্রামেও। নিজের প্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ভাস্কর্য নির্মাণ করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছোট দুর্গাপুর গ্রামের তরুণ শিল্পী ধনঞ্জয় মোহন্ত রাজু।

মাটি, খড় ও রঙ-তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় মাত্র ছয় দিনের পরিশ্রমে তিনি তৈরি করেছেন বিশ্বসেরা এই ফুটবলারের ভাস্কর্য। অবিকল মেসির আদলে নির্মিত ভাস্কর্যটি দেখতে প্রতিদিনই রাজুর বাড়িতে ভিড় করছেন আর্জেন্টিনা সমর্থক, ফুটবলপ্রেমী এবং কৌতূহলী দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, ধনঞ্জয় মোহন্ত রাজু দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার সঙ্গে মাটির তৈরি বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা নির্মাণের কাজ করে আসছেন। শৈশব থেকেই শিল্পের প্রতি তার ছিল গভীর অনুরাগ। তবে এবার তিনি ধর্মীয় প্রতিমার গণ্ডি পেরিয়ে নিজের ভালোবাসার ফুটবল তারকাকে তুলে ধরেছেন শিল্পের মাধ্যমে।

ধনঞ্জয় মোহন্ত রাজু বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। বিশেষ করে লিওনেল মেসির খেলা ও ব্যক্তিত্ব তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সেই ভালোবাসা থেকেই তিনি মেসির ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

তিনি আরো বলেন, মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আমার অনুপ্রেরণা। অনেকদিন ধরেই তার একটি ভাস্কর্য তৈরির ইচ্ছা ছিল। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। মানুষের ভালোবাসা ও প্রশংসা পেয়ে আমি আনন্দিত।

আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই কাজে রাজুকে সহযোগিতা করেছেন তার সহধর্মিণী, যিনি আবার ব্রাজিল দলের সমর্থক। দলগত সমর্থনের ভিন্নতা থাকলেও স্বামীর সৃজনশীল উদ্যোগে সবসময় পাশে থেকেছেন তিনি।

রাজুর স্ত্রী বলেন, আমি ব্রাজিলের সমর্থক হলেও রাজুর শিল্পকর্মকে সবসময় উৎসাহ দিই। ভাস্কর্য তৈরির সময় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। তার কাজ দেখে সবাই প্রশংসা করছে, এতে আমরাও খুশি।

স্থানীয় বাসিন্দারাও রাজুর এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, এমন সৃজনশীল কাজ গ্রামীণ শিল্প ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রাজু জাতীয় পর্যায়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন।

স্থানীয় যুবক সুবর্ণ মোহন্ত মিথুন বলেন, আমরা সাধারণত এমন কাজ শহরে দেখতে পাই। কিন্তু গ্রামের একজন ছেলে এত সুন্দরভাবে মেসির ভাস্কর্য তৈরি করেছে, যা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আমরা চাই তার প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন হোক।

বর্তমানে রাজুর বাড়িটি যেন ফুটবলপ্রেমীদের এক অনানুষ্ঠানিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে মেসির ভাস্কর্যের সঙ্গে ছবি তুলছেন এবং শিল্পীর সৃষ্টিশীলতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর শিল্পসত্তার অনন্য সমন্বয়ে তৈরি এই ভাস্কর্য এখন গোবিন্দগঞ্জের গণ্ডি পেরিয়ে গাইবান্ধাজুড়েই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button