
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিয়াটলের গ্যালারিতে ছেলের খেলা দেখতে আসার কথা ছিল তার মায়ের। কিন্তু ভিসা জটিলতার পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি। ফলে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া-র জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তটি মাঠে বসে দেখা হয়নি তার মায়ের।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপের এইচ গ্রুপে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল কেপ ভার্দে। শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত সব সেভে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে পারেননি ভোজিনিয়া। মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে জানান, তার শৈশব কেটেছে দাদা-দাদির কাছে। তবে তারা এখন আর বেঁচে নেই। কয়েক বছর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। আর নানা জটিলতার কারণে তার মাও এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি সরাসরি দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি।
ভোজিনিয়ার এই গল্প ফুটবলপ্রেমীদের মন ছুঁয়ে গেছে। সাবেক স্কটিশ ফুটবলার প্যাট নেভিন তার প্রশংসা করে বলেন, পুরো ম্যাচেই তিনি ছিলেন অসাধারণ। ৪০ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই বিরল। ম্যাচ শেষে ক্যামেরার ফোকাসও ছিল তার দিকেই, আর সতীর্থদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট ছিল—দলের সবচেয়ে বড় নায়ক তিনিই।
এই ম্যাচে ভোজিনিয়া মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন, যা বিশ্বকাপের মঞ্চে ৪০ বা তার বেশি বয়সী কোনো গোলরক্ষকের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নিজের এই সাফল্যের দিনে একটি আক্ষেপ থেকেই গেছে—গ্যালারিতে ছিলেন না তার মা। তবুও দূর থেকে টেলিভিশনের পর্দায় ছেলের বীরত্বগাথা দেখে তিনি নিশ্চয়ই আবেগাপ্লুত হয়েছেন। সেই কান্না ছিল গর্ব আর আনন্দের।



