Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাজামায়াতদেশবাংলারাজনীতি

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার শুনে ‘চোখ খুলছেন না’ শিবির নেতা জিসান

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া বর্তমানে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ভাষ্য, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে যে জিসান পুরোপুরি সুস্থ। কিন্তু তিনি নিজেকে ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে আছেন। এ কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন জিসান। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় ওই নারীর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুরুতে হাসপাতালে এসে জিসান পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই শুনেছেন, তাকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকে তিনি চোখ খুলছেন না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রধান হিসেবে আছেন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই বোর্ড জিসান মিয়ার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তিনি সুস্থ প্রমাণিত হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে জিসান নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। গত ১১ জুন রাতে তিনি নিখোঁজ হওয়ার দাবি করেন এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বিধবা নারীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে বিয়ের চাপ দিলে ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১১ জুন রাতেই জিসান আত্মগোপনে চলে যান।

শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে ‘অচেতন’ অবস্থায় উদ্ধারের দাবি করে তার পরিবার। কিন্তু পুলিশ বলছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর শুরুতে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও, ধর্ষণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জানার পর থেকেই তিনি চোখ খুলছেন না বা অসংলগ্ন আচরণ করছেন।

এই ঘটনায় ওই বিধবা নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসানকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় তাকে এখনো আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং এই অনৈতিক ঘটনার জেরে তাকে ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button