
বাংলা টিভি ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের পর এক গৃহবধূ নিরাপত্তাহীনতায় নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, আরেক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন ওই নারী। গত বুধবার বিকেলে তার স্বামী কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক নির্যাতন করে বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় তার দুই শিশুসন্তানও বাড়িতে উপস্থিত ছিল।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী আইনের আশ্রয় নেন। শুক্রবার তিনি সোনারগাঁ থানা-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন শহীদুল ইসলাম শহীদ এবং শাহিন মিয়া। মামলার আরেক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল-এ। তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি এখনও বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, মামলা করার আগে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ ছিল। বর্তমানে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার হলেও এলাকায় ফিরে কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা তাদের মধ্যে কাজ করছে। এ কারণে আপাতত হাসপাতালেই অবস্থান করছেন তারা।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো উদ্বেগের বিষয়ে পরিবারকে সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



