
বাংলা টিভি ডেস্ক: রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সময়ে অক্সিজেন না পাওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হামলার চেষ্টা করেছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে নুরজাহান বেগম (৫৫) নামের এক নারীকে তার ছেলে রিফাত হোসেন হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর জন্য দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা চাওয়া হলেও আগে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। পরে ভোরের দিকে রোগী মারা যান।
রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, এ সময় রিফাত দায়িত্বরত কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
পরিস্থিতির একপর্যায়ে মৃতদেহ মর্গে রাখা হয় এবং চিকিৎসকদের একটি অংশ জানিয়ে দেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত লাশ হস্তান্তর করা হবে না। এ কারণে স্বজনদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও প্রায় ১১ ঘণ্টা মৃতদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে বিকেলে রিফাত হাসপাতালে এলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এরপর পরিবারের কাছে নুরজাহান বেগমের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
মৃতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, লাশ আটকে রাখা এবং মৃতের ছেলেকে প্রকাশ্যে অপমান করা অত্যন্ত অমানবিক আচরণ। অন্যদিকে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার প্রতিবাদ জানাতেই তারা অবস্থান নিয়েছিলেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ মেলেনি। তবে মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে লাশ হস্তান্তরের ঘটনাকেও তিনি নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।



