দৌলতপুরে সরকারি ক্যানালের মাটি কেটে রাতের আঁধারে বিক্রি

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে সরকারি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মাটি খেকো চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদী টোলপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি ক্যানাল থেকে রাতের আঁধারে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিচে অবস্থিত ক্যানালের পাড় কেটে ট্রলি চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ক্যানালের শুকনো অংশে মাটি কেটে দুটি বড় আকারের গর্ত বা পুকুরের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি স্কেভেটর মেশিনও দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব সরকারি জমি বা ক্যানালের মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। এ কাজে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তারা বলেন, উপজেলার সিরাজনগর টোল পাড়ার বানাত ব্যাপারী, আশরাফুল ও কালামসহ কয়েকজন এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয়দের দাবি, গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে অন্তত এক হাজার ট্রলি মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে সরকারি সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি জমির ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে বাঁধ ও ক্যানালের স্থায়িত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বানাত ব্যাপারির কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজস্ব জমিতে মাটি কাটার দাবি করেন। নিজের জমির মাটি রাতের আধারে কেন কাটছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি না অন্যরা কাটছে। জমি আপনার অন্যরা কিভাবে মাটি কাটে জানতে চাইলে তিনি আর উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, “স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ক্যানালের মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে শুনেছি। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পায়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হবে।”
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ক্যানাল ও বাঁধ রক্ষায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।



