Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট

বাংলা টিভি ডেস্ক: বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে একটি আধা কিলোমিটার কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো ও পরে তা তুলে নেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অনুপযোগী ছিল। ওই সড়কটি পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গত অর্থবছরে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় বলে সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে।

দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরু করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের পূর্বে তড়িঘড়ি করে সড়কের ওই অংশে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানোর ব্যবস্থা করা হয়, যাতে ভিভিআইপি চলাচলে কোনো সমস্যা না হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের দিন রাস্তার ওই অংশে ইট বিছানো থাকায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন এবং ধারণা করেছিলেন এটি স্থায়ী সমাধানের দিকে যাবে। তবে সফর শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই সড়কে বিছানো সেই ইটগুলো তুলে নেওয়া হয়।

এরপর থেকে বৃষ্টির কারণে কাঁচা সড়কটি আবারও কর্দমাক্ত ও চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখন ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটা বা যানবাহন চলাচল উভয়ই অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এলজিইডির বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য অনুযায়ী, সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করার প্রকল্প অনুমোদিত রয়েছে এবং সেই কাজের অংশ হিসেবেই অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেই অস্থায়ী ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, এটি ভাড়া বা অস্থায়ী ব্যবস্থার অংশ ছিল এবং স্থায়ী নির্মাণকাজের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ রয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, সফরকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী উন্নয়ন করা হলেও সেটি পরে তুলে নেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রকল্প অনুযায়ীই ধাপে ধাপে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button