
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্যারিয়ারের চতুর্থ এবং সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার Neymar। টুর্নামেন্টকে ঘিরে তার উচ্ছ্বাস যেন নতুন কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতার মতোই। তবে চোটজনিত শঙ্কা তার বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুটা কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলেছে।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের প্রথম ম্যাচে খেলা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। পায়ের পেশির পুরোনো সমস্যার কারণে দলের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবুও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি হওয়ায় ব্রাজিল শিবির আশাবাদী।
সাম্প্রতিক এক প্রামাণ্যচিত্রে নেইমার বলেন, এটি তার চতুর্থ বিশ্বকাপ হলেও অনুভূতিটা একেবারেই আলাদা। কারণ তিনি উপলব্ধি করছেন, এটাই হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চান তিনি।
তার ভাষায়, জাতীয় দলের সঙ্গে বিশ্বকাপ মঞ্চে থাকতে পারাটা এখনো তাকে শিশুর মতো আনন্দ দেয়। যেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি গর্ব ও আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
গত কয়েক বছর চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। নতুন কোচ Carlo Ancelotti-র অধীনে তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপে নেইমারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত আসরে। তবে সেই টুর্নামেন্টে চোটের কারণে সেমিফাইনালের আগে ছিটকে যান তিনি এবং ব্রাজিলকে ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তী দুই বিশ্বকাপেও শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হয়নি; দুইবারই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দলকে।
এবারের আসরে তাই ব্যক্তিগতভাবে যেমন আবেগঘন এক অধ্যায়ের শেষ দেখতে পারেন নেইমার, তেমনি দীর্ঘদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের সুযোগও খুঁজছেন তিনি। বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।



