
বাংলা টিভি ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বর্তমান পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী লিংখং গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, বিদ্যমান নকশা অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ করা হলে গ্রামটি ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
এ পরিস্থিতিতে নির্মাণকাজ স্থগিতের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাদের মতে, বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল দুটোই চরমভাবে ব্যাহত হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লিংখং গ্রামটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্য রেখার খুব কাছাকাছি অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রচলিত নিয়ম অনুসারে কাঁটাতারের বেড়া সীমান্ত থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে নির্মাণ করা হলে পুরো গ্রামটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
গ্রামপ্রধান রামু জানান, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে তাদের আপত্তি নেই। তবে তারা চান, জনবসতির বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বেড়াটি শূন্য রেখার কাছাকাছি স্থাপন করা হোক, যাতে গ্রামটি ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদিরও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা কার্যকর হলে গ্রামবাসীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তিনি এ বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চললেও ভূপ্রকৃতি ও স্থানীয় জটিলতার কারণে মেঘালয়ের দীর্ঘ সীমান্তের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো অরক্ষিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিংখং গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি সীমান্ত ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয়দের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে আসছেন।
মেঘালয় সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন এলাকায় শূন্য রেখার কাছাকাছি একক সারির কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্র: The Hindu.



