মানুষের বদলে আম বাগান পাহারায় দুই কুকুর

বাংলা টিভি ডেস্ক: নওগাঁর একটি আমবাগানের নিরাপত্তার দায়িত্বে নেই কোনো মানব পাহারাদার। বিশাল বাগানটির দিন-রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে দেশি জাতের দুটি কুকুর—‘লালু’ ও ‘কালু’। মালিকের কাছে তারা শুধু পাহারাদার নয়, পরিবারেরই সদস্য।
নওগাঁ পৌর এলাকার আনন্দনগর বাগবাড়ি এলাকায় চাষি আব্দুল আলিমের ১০ বিঘার আমবাগানে রয়েছে বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের দেশি-বিদেশি আমগাছ। বাগানের দেখভাল ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে বড় ভরসা এই দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী।
আব্দুল আলিম জানান, ছোটবেলায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে কুকুরছানা অবস্থায় লালু ও কালুকে নিয়ে আসেন তিনি। রঙের ভিন্নতার কারণে একটির নাম রাখা হয় লালু, অন্যটির কালু। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা পরিবারের সদস্যের মতোই হয়ে উঠেছে।
তার ভাষায়, বাগানে আলাদা পাহারাদার রাখার প্রয়োজন পড়ে না। পরিবারের সদস্যদের মতোই তাদের খাবার ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। নিয়মিত চিকিৎসা, টিকাদান এবং প্রয়োজনীয় যত্নও নিশ্চিত করা হয়।
বিশেষভাবে আলোচিত লালু একটি দুর্ঘটনায় একটি পা হারালেও তার দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতায় কোনো ঘাটতি আসেনি। এখনো সে কালুর সঙ্গে সমানতালে বাগান পাহারা দিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, অপরিচিত কেউ সহজে বাগানে প্রবেশ করতে পারে না। লালু ও কালু সতর্ক অবস্থানে থেকে আগন্তুকদের ওপর নজর রাখে। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকলে তারা স্বাভাবিক আচরণ করে।
বাগান পাহারার পাশাপাশি আলিমের মেয়েরও ঘনিষ্ঠ সঙ্গী এই দুই কুকুর। প্রতিদিন তাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে খেলাধুলার সময়ও তারা পাশে থাকে।
নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলেও নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে কুকুর পালনের প্রবণতা বাড়ছে। নিয়মিত টিকা ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা হলে এসব প্রাণী মানুষের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভালোবাসা, যত্ন ও প্রশিক্ষণ পেলে প্রাণীরাও যে মানুষের নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও দক্ষ পাহারাদার হয়ে উঠতে পারে, নওগাঁর লালু ও কালু তারই একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।



