ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন

বাংলা টিভি ডেস্ক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, নতুন শিক্ষা কাঠামোর লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শুধু সনদনির্ভর না রেখে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও কর্মমুখী যোগ্যতা তৈরি করা। এ লক্ষ্যে পাঠ্যক্রমে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এসব বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সামাজিক আচরণ, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও জীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও বাড়ানো হবে, যাতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা তৈরি হয়।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। তবে ধাপে ধাপে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাঠামোগত সংস্কার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন পাঠ্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সীমিত সময়ের কারণে সব পরিবর্তন একসঙ্গে আনা সম্ভব হয়নি, তবে আগামী বছরে আরও বিস্তৃতভাবে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাজেট প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে এ বছর ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
তিনি আরও বলেন, উদ্ভাবনী চিন্তা ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি উৎসাহিত করতে ‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি চালু করা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রকল্পে সিড ফান্ডিংয়ের সুযোগ থাকবে।
কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারায় আনতে ক্যারিয়ার ফেয়ার, স্কিল কম্পিটিশন এবং কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।



