Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন চেষ্টা, সীমান্তে ৬১ ঘণ্টা পড়ে রইল ২ শিশু

বাংলা টিভি ডেস্ক: যে বয়সে মাঠজুড়ে ছুটে বেড়ানোর কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলায় মেতে থাকার কথা, সন্ধ্যা নামলে মায়ের হাত ধরে ঘরে ফেরার কথা, সেই বয়সেই খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছে দুই অবুঝ শিশু।

রোববার (৭ জুন) দিন শেষে বিকেল ৬টার দিকেও দেখা গেল, মায়ের কোলে মাথা রেখে শূন্য চোখে দূরে তাকিয়ে আছে তারা। সন্তান দুটিকে নিজ কোলে আগলে রেখেছেন মা। শিশু দুটির চোখেমুখে ক্লান্তি, অনিশ্চয়তা আর অজানা এক বিষাদের ছাপ। বুঝে ওঠার বয়স না হলেও বাস্তবতার নির্মমতা যেন ছুঁয়ে গেছে ছোট্ট এই দুই শিশুর মনকে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জন মানুষ টানা ৬১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিরো লাইনের (শূন্যরেখা) ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটকে থাকা ১০ জনের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের পরিচয় মিলেছে। বিভিন্ন সূত্র ও তাদের ভারতীয় আধার কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা শামসুল, তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। তবে শিশু দুটির নাম এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামসুল দীর্ঘদিন ধরে ভারতে সবজির ব্যবসা করতেন এবং পরিবারসহ সেখানেই বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরের পর শুক্রবার ভোরের দিকে বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বিজিবি তাদের বাধা দেয়। এরপর থেকে শামসুলের পরিবারসহ মোট ১০ জন সীমান্তের জিরো লাইনে কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন। কোনো ছাউনি ও নিরাপদ আশ্রয় ছাড়াই রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ফসলি জমিতে জমে থাকা পানিতে তাদের মানবেতর দিন কাটছে।

স্থানীয়রা জানান, আটকে থাকা ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশুরা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘তাদের যদি ভারতীয় আধার কার্ড থাকে, তাহলে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা কেন করা হচ্ছে? তারা যদি ভারতের নাগরিক হন, তাহলে ভারতকেই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি শামসুল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান ভারতের নাগরিক। তাদের এভাবে সীমান্তে ফেলে রাখা মোটেও মানবিক নয়। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’

বিজিবি জানায়, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফ ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক করা হলেও বিএসএফ তাঁদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছেন। সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি ও কঠোর টহল জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button