Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

বাবার মৃত্যুর পর ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে উল্লাস!

বাংলা টিভি ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় বাবার মৃত্যুর পর শোক প্রকাশের পরিবর্তে ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে উল্লাস করেছে ছেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনার জন্য পরে ক্ষমা চান প্রয়াত ব্যক্তির ছেলে খাইরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, বাবা জীবদ্দশায় তার মৃত্যুর পর যেন অতিরিক্ত শোক না করা হয় এবং তাকে আনন্দের সঙ্গে বিদায় দেওয়া হয়। সেই ইচ্ছে পূরণের জন্যই এ কাণ্ড করেছেন।

রোববার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌর এলাকার শামসুদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা তার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় তার ছোট ছেলে কাঠমিস্ত্রি খাইরুল ইসলাম বাবার মরদেহ গোসলের আগে বাড়িতে ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেন বলে স্থানীয়রা জানায়।

ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই। স্থানীয়দের একটি অংশ এটিকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মরদেহের জানাজায় অংশগ্রহণ নিয়েও অনীহা দেখা দেয় এলাকাবাসীর মধ্যে।

পরে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের হস্তক্ষেপে খাইরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর আলেমদের সহযোগিতায় মরদেহের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইমাম মাওলানা তফাজ্জল হক রাশেদীন বলেন, ‘মৃত্যু মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সত্য। ইসলাম মৃত্যুর সময় ধৈর্য ধারণ, দোয়া করা এবং মরহুমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। এ ঘটনায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পরে আমরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করি। সবাইকে এ ধরনের বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সচেতন থাকা প্রয়োজন।’

তবে খাইরুল ইসলামের দাবি, তার কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা জীবদ্দশায় বলেছিলেন, তার মৃত্যুর পর যেন অতিরিক্ত শোক না করা হয় এবং তাকে আনন্দের সঙ্গে বিদায় দেওয়া হয়। আমি বাবার সেই ইচ্ছে পূরণের চেষ্টা করেছি, কিন্তু এতে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। যদি আমার আচরণে কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button