বাংলা টিভির প্রতিবেদন দেখে এগিয়ে এলো মানবতা, হাসি ফিরল বৃদ্ধ দম্পতির মুখে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি (ডিজিটাল): বয়সের ভারে ন্যুব্জ দু’টি মানুষ… একজনের বয়স ৯৫, অন্যজন ৮৫। জীবনের শেষ সময়ে যেখানে থাকার কথা ছিল সন্তানের স্নেহ আর একটু শান্তির আশ্রয়ে, সেখানে তারা কাটাচ্ছিলেন অভাব আর অনিশ্চয়তার জীবন। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বানিয়াগাঁতী গ্রামের বৃদ্ধ এনছাব আলী ও সুন্দরী বেগমের মানবেতর জীবন নিয়ে বাংলা টিভিতে সংবাদ প্রচারের পর এবার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা। দীর্ঘদিনের কষ্টের জীবনে যেন নতুন করে আশার আলো দেখছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।
গত বুধবার (১৩ মে) বাংলা টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনে উঠে আসে ভাঙাচোরা ঘরে অসহায়ভাবে বসবাস করা এই বৃদ্ধ দম্পতির করুণ জীবনচিত্র। খাবার, ওষুধ, কাপড়—কোনো কিছুরই ঠিকমতো ব্যবস্থা ছিল না তাদের। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানবিক মানুষদের হৃদয় নাড়া দেয়।
এরপর স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে আসেন সহযোগিতার হাত নিয়ে। চার মাসের খাবার সামগ্রী, চাল, ডাল, তেল, মসলা, বড় মাছ, ছয়টি মুরগি, মুড়িসহ নিত্য প্রয়োজনীয় নানা জিনিস তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। পাশাপাশি দেওয়া হয় রাইস কুকার, চার্জার ফ্যান, সিলিং ফ্যান, নতুন শাড়ি, লুঙ্গি ও ফতুয়া।
শুধু স্বেচ্ছাসেবীরাই নয়, তাদের কষ্টের কথা শুনে পাশে দাঁড়িয়েছে কামারখন্দ থানা পুলিশও। নগদ ১৫ হাজার টাকা, ১৫ কেজি চাল ও দুই কেজি তেল দিয়ে সহযোগিতা করেন পুলিশ সদস্যরা।
সুন্দরী বেগম জানান, চাউল পেয়েছি, বালিশ, মুরগি, মাছ, মুড়ি, টাকা ও ফ্যান পেয়েছি। আমরা অভাবে আছিলাম, এখন আর অভাব নাই। যারা সাহায্য করছে তাদের জন্য দোয়া করমু। পাঁচ বছর পর নতুন শাড়ি পেলাম। বাংলা টিভি আমার জীবন কাহিনী তুলে ধরছে বলেই এত কিছু পাইছি।
মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও। তাদের একজন জানান, সংবাদটি দেখেই অসহায় এই দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা।
সেচ্ছাসেবক মামুন বিশ্বাস বলেন, “কয়েকদিন আগে বাংলা টিভিতে বৃদ্ধ এনছাব আলী ও সুন্দরী বেগমের প্রতিবেদন দেখি। তাদের অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগে। পরে আমরা আবার বিষয়টি পোস্ট করলে প্রায় ৮৯ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। সেই টাকা দিয়ে ফ্যান, রাইস কুকারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিয়েছি এবং ১৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা করেছি। নেদারল্যান্ড প্রবাসী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আপা প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে দিবেন। দিনশেষে তাদের মুখে হাসি ফুটাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।



