খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিকবিষয়ক উপপ্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ।
বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, জিলহজ মাসের শেষভাগ এবং মহররমের শুরুতে এসব আনুষ্ঠানিকতা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইরানের মেট্রোপলিটনগুলোর ৫২তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কমিশনের বৈঠকে তিনি এ সংক্রান্ত প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তাভাকোলিজাদেহ জানান, দাফন কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী শোক মিছিল বা ‘পিপলস প্যারেড’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদায়ী অনুষ্ঠান শেষে জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যা রাজধানী তেহরানে অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে।
তার মতে, এ আয়োজনে তেহরানে দেড় থেকে দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। সম্ভাব্য এই বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তেহরানের পাশাপাশি কোম ও মাশহাদ শহরেও জানাজার আয়োজন করা হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও পৃথক কর্মসূচি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিবারের পরামর্শ অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।
তাভাকোলিজাদেহের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ ও কাশ্মীরসহ পূর্বাঞ্চলীয় ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মীয় নেতা, সরকারি প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।
এর আগে ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, খামেনির জানাজা হবে এমন একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন, যা ইরান এবং মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির নেতৃত্ব দেন।



