“লিচু চোর” অপবাদে গাছে বেঁধে নির্যাতন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেল সেই শিশু

বগুড়া প্রতিনিধি (ডিজিটাল): বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় লিচু চুরির অপবাদ দিয়ে এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্যাতিত শিশুর জন্য লিচু ও ঈদ উপহার পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শিহালী সরকারপাড়া গ্রামে। নির্যাতনের শিকার ১০ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু কাওসার।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা লোটাস ও তার ছেলে শোয়াইব লিচু চুরির অভিযোগ তুলে শিশুটিকে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এ সময় তার গলায় “লিচু চোর” লেখা একটি কাগজ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাছে বাঁধা অবস্থায় ভীত ও অসহায় কাওসার কান্না করছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে কীভাবে এমন অমানবিক আচরণ করা সম্ভব।
নির্যাতিত শিশুর বাবা রুবেল মন্ডল জানান, তার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতে পারে না। এমন অবস্থায় তাকে প্রকাশ্যে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, যা পরিবারকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
এদিকে ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মাধ্যমে শিশুটির বাড়িতে লিচু ও ঈদসামগ্রী পাঠানো হয়। প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর গত ২৫ মে রাতে রুবেল মন্ডল বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত লোটাস ও তার ছেলে শোয়াইবকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, শিশুটির প্রতি নির্যাতনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একটি মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুর গলায় “লিচু চোর” লেখা কাগজ ঝুলিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতনের এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, ব্যথিত করেছে পুরো দেশকে। শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সমাজের সকল স্তরে আরও সচেতনতা ও মানবিকতার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।



