Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
আন্তর্জাতিকএশিয়া

বাল্যবিয়েকে আইনি স্বীকৃতি দিচ্ছে তালেবান সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে বাল্যবিয়ে ও নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে তালেবান সরকারের সাম্প্রতিক আইন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নতুন এই আইন কার্যকর হলে নারীদের জন্য স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডিভোর্স নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং এর মাধ্যমে বাল্যবিয়েকে কার্যত আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকেই অল্প বয়সে ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একটি বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে কম বয়সে বা জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

নতুন আইনের সমালোচকদের দাবি, কোনো নারী যদি জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগও তোলেন, তবুও স্বামীর সম্মতি ছাড়া তিনি আইনি বিচ্ছেদ পাবেন না। এমনকি স্বামী নিখোঁজ থাকলেও বা ভরণপোষণ না দিলেও নারীর এককভাবে তালাক চাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।

এ পরিস্থিতিকে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতা হিসেবে দেখছেন অনেক মানবাধিকারকর্মী। রাজধানী কাবুল–এ নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মীরাও এ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, তালেবান সরকার ধারাবাহিকভাবে নারীর অধিকার সংকুচিত করে এমন নীতি গ্রহণ করছে।

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন ইন আফগানিস্তান (ইউনামা)। সংস্থাটি বলেছে, এই আইন আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার হরণের আরও একটি ধাপ এবং এটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান সরকার। তাদের বক্তব্য, ইসলামিক ব্যবস্থার বিরোধিতাকারীরাই এসব সমালোচনা করছে এবং সরকার এ ধরনের প্রতিবাদকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, আফগানিস্তানে বাল্যবিয়ের শিকার বহু কিশোরী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির দাইকুন্দি প্রদেশে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button