Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলাবাংলাদেশ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের সন্তান ইসমাইল মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে; বাঁচার আকুতি

মো. রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা থেকে: জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার অন্ধকারে ডুবে থাকা একটি পরিবার। ভিক্ষাবৃত্তি করেই চলে তাদের নিত্যদিনের জীবনসংগ্রাম। সেই পরিবারেই জন্ম নেওয়া ছোট্ট শিশু ইসমাইল হোসেন ইয়াসিন এখন হৃদপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও প্রায় ৩ লাখ টাকার ব্যয় বহন করা অসহায় পরিবারটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ফলে মানবিক সহায়তার আশায় দিন গুনছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই পরিবার।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের ঝাপড় গ্রামের পুকুরপাড় ঘেঁষা চার শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটি সরকারি ঘর। সেখানেই কোনো রকমে বসবাস করেন লাবলু মিয়া। পাশের একটি টিনের ছাপড়া ঘরে থাকেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা। অভাব, অনিশ্চয়তা আর অন্ধকার যেন পরিবারটির নিত্যসঙ্গী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লাবলুর বাবা সাহাদুল মিয়া জন্ম থেকেই প্রায় দৃষ্টিহীন। সামান্য আবছাভাবে দেখতে পেলেও স্বাভাবিক জীবনযাপন তার পক্ষে সম্ভব নয়। আর ছেলে লাবলু মিয়া সম্পূর্ণ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। একই পরিবারের আরও সদস্যও প্রতিবন্ধিতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

প্রতিবন্ধকতার মাঝেই সংসার জীবনে পা রাখেন লাবলু মিয়া। বিয়ের পর তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় ছেলে ইসমাইল হোসেন ইয়াসিন। কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই নতুন করে নেমে আসে দুঃস্বপ্ন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশু ইসমাইল। শারীরিক জটিলতা ও কান্নাকাটি বেড়ে গেলে প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করালে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কিন্তু চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ টাকা। যেখানে পরিবারের সদস্যরা ভিক্ষাবৃত্তির টাকায় কোনো রকমে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন, সেখানে এত বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

শিশুটির বাবা লাবলু মিয়া ও মা ইসমোতারা খাতুন বলেন, ছেলেটাকে বাঁচাতে আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। চিকিৎসক বলেছেন দ্রুত অপারেশন করতে হবে। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান মানুষ একটু সাহায্যের হাত বাড়ালে হয়তো আমাদের সন্তানটা বেঁচে যাবে।

স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, অন্ধ বাবা সাহাদুল মিয়াকে নিয়ে লাবলু মিয়া গ্রামের হাট-বাজারে মানুষের সহযোগিতা আর ভিক্ষার টাকাতেই সংসার চালান। ভিক্ষা না করলে অনেক দিন তাদের ঘরে চুলাও জ্বলে না। এমন অসহায় পরিবারের পক্ষে শিশুর ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো অসম্ভব বলে মনে করেন তারা।

প্রতিবেশী আনোয়ারা ও আফরুজা বেগম প্রতিবেদককে বলেন, ‘সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে ছোট্ট ইসমাইল নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে।’

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ বাংলা টিভিকে বলেন, ‘পরিবারটির আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে জটিল রোগের চিকিৎসা সহায়তার যে সুযোগ রয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।’

অন্ধকারে ডুবে থাকা পরিবারটির এখন একটাই স্বপ্ন ছোট্ট ইসমাইলকে বাঁচিয়ে রাখা। মানবিক সহায়তা আর সরকারি সহযোগিতা মিললে হয়তো নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে শিশুটি। এখন শুধু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অপেক্ষা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button